এইমাত্র পাওয়া ব্রেকিং ! সরকারি চাকরিতে যা থাকবে না বলে এইমাত্র ঘোষণা দিলো ঐক্যফ্রন্ট


একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয়ী হয়ে ক্ষমতায় গেলে সামরিক বাহিনী ও পুলিশ ছাড়া সরকারি চাকরিতে প্রবেশে কোনো বয়সসীমা রাখবে না জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট। পাশাপাশি অনগ্রসর ও প্রতিবন্ধী ছাড়া কোনো কোটাও রাখবে না তারা।

সোমবার দুপুরে রাজধানীর মতিঝিলে হোটেল পূর্বাণী ইন্টারন্যাশনালে ঐক্যফ্রন্টের ইশতেহার ঘোষণায় এমনটি উল্লেখ করা হয়।

চলতি বছরের ১৩ অক্টোবর বিএনপিসহ কয়েকটি দল নিয়ে গঠিত হওয়া ঐক্যফ্রন্ট দুই দফা তারিখ পেছানোর পর সোমবার নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করে। ইশতিহারে দেয়া হয়েছে ১৪টি প্রতিশ্রুতি।

জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের নির্বাচনী ইশতেহারে উল্লেখ করা হয়, বিগত ১০ বছরে কল্পনাতীত স্বেচ্ছাচারিতা এবং পুলিশকে দলীয় ক্যাডার হিসেবে ব্যবহার করে হাজার হাজার মিথ্যা মামলায় ঘুষ বাণিজ্য ও বিচারবহির্ভূত হত্যায় লাখ পরিবার ক্ষুব্ধ এবং বিপর্যস্ত।

এ সমস্যা সমাধান করে সামাজিক শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ, সমাজকর্মী, আইনজীবী-সমন্বিত সর্বদলীয় সন্ধান ও বিভেদ নিরসন কমিশন গঠন করে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে অতীতে দায়ের করা হয়রানিমূলক মামলা খোলা মনে আলোচনা করে ক্ষমা ও ক্ষতিপূরণের মাধ্যমে সমস্যার সমাধান করা হবে।

বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড এবং গুম পুরোপুরি বন্ধ করা হবে। ডিজিটাল সিকিউরিটি অ্যাক্ট বাতিল করা হবে। রিমান্ডের নামে পুলিশি হেফাজতে যেকোনো প্রকার শারীরিক নির্যাতন বন্ধ করা হবে। সাদা পোশাকে কাউকে গ্রেফতার করা হবে না।

সংখ্যালঘু এবং ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর মানবিক মর্যাদা অধিকার, তাদের নিরাপত্তা ও সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিতের লক্ষ্যে সংখ্যালঘু মন্ত্রণালয় প্রতিষ্ঠা করা হবে। তাদের ওপর যেকোনো রকম হামলার বিচার হবে বিশেষ ট্রাইব্যুনালে। যুদ্ধাপরাধীদের বিচার কার্যক্রমও চলমান থাকবে।

প্রধানমন্ত্রী ও রাষ্ট্রপতির ক্ষমতার ভারসাম্য আনা হবে। একটানা পরপর দুই মেয়াদের বেশি প্রধানমন্ত্রী থাকা যাবে না।

সংসদের ডেপুটি স্পিকার বিরোধীদলীয় সংসদ সদস্যদের মধ্য থেকে নির্বাচিত হবে। সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক সভাপতির পদ সংসদে প্রতিনিধিত্বকারী রাজনৈতিক বিরোধী দলের জন্য নির্দিষ্ট থাকবে।

দুর্নীতি দমন কমিশনকে সম্পূর্ণ স্বাধীনভাবে কাজ করতে দেয়া হবে। দুর্নীতিবাজ সরকারি কর্মকর্তা গ্রেফতারে সরকারের অনুমতি লাভের বিধান বাতিল করা হবে।

বর্তমানে চলমান কোনো উন্নয়ন প্রকল্প বন্ধ করা হবে না, কিন্তু বর্তমান সরকারের শেষ দুই বছর তড়িঘড়ি করে নেয়া প্রকল্পগুলো পুনর্বিবেচনার জন্য কমিটি গঠন করা হবে। বর্তমানে চালু থাকা উন্নয়ন প্রকল্পগুলোর ব্যয় নিরীক্ষা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

পিএসসি ও জেএসসি পরীক্ষা বাতিল করা হবে। কোমলমতি শিক্ষার্থীদের জন্য খেলাধুলা ও বিনোদনের ব্যবস্থা করা হবে। সকল পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে সমন্বিত ভর্তি পরীক্ষা ব্যবস্থা করা হবে। মোবাইল ইন্টারনেট খরচ অর্ধেকে নামিয়ে আনা হবে। তিন মাসের মধ্যে ওষুধ এবং ডায়াগনস্টিক পরীক্ষার খরচ উল্লেখযোগ্য পরিমাণ কমানো হবে।

দুই বছরের মধ্যে গার্মেন্টস শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি ১২ হাজার টাকা করা হবে। পুনর্বাসন ছাড়া শহরের বস্তিবাসী ও হকারদের উচ্ছেদ করা হবে না।ক্ষমতায় গেলে প্রথম বছরে বিদ্যুৎ ও গ্যাসের দাম বাড়ানো হবে না।

ইশতেহার ঘোষণা অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষনেতা ড. কামাল হোসেন, মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, আ স ম আবদুর রব, নজরুল ইসলাম খান, মাহমুদুর রহমান মান্না, সুব্রত চৌধুরী, ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী, মোস্তফা মহসিন মন্টু, ড. রেজা কিবরিয়া প্রমুখ।

জাগোনিউজ২৪.কম

Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.


*