ব্রেকিং : ইভিএম ব্যবহার নিয়ে যা বললেন আইনমন্ত্রী


আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ইভিএমের (ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন) ব্যবহার সংবিধানসম্মত বলে মন্তব্য করেছেন আইনমন্ত্রী আনিসুল হক।

তিনি বলেন, সংবিধানে যেটা লেখা আছে, তার আওতায় থেকেই নির্বাচনে ইভিএম করা হচ্ছে।

রোববার দুপুরে রাজধানীর বিচার প্রশাসন প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটে জেলা জজ,

দায়রা জজ এবং মেট্রোপলিটন দায়রা জজদের ২৪তম বিচার প্রশাসনিক প্রশিক্ষণ কর্মশালার উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী এ মন্তব্য করেন।

নির্বাচনে ছয়টি আসনে ইভিএম ব্যবহার করা নিয়ে বিএনপির আপত্তির বিষয়ে জানতে চাইলে আইনমন্ত্রী বলেন, ‘আমি একটি জিনিস বুঝলাম না, ওনাদের (বিএনপি) সঙ্গে সংবিধান প্রণয়ন কমিটির চেয়ারম্যান (ড. কামাল হোসেন) আছেন। তারপরও ওনারা কীভাবে এসব বক্তব্য দেন? একটা সময় কম্পিউটারে বা ইন্টারনেটে নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার কোনো নিয়ম ছিল না। কারণ, যখন সংবিধান রচনা করা হয়েছিল তখন এসব প্রযুক্তি ছিল না। আর সংবিধানে সব কথা লেখা থাকে না। সংবিধানে যেটা লেখা আছে তার আওতায় থেকেই কিন্তু এই ব্যবস্থা (ইভিএম) করা হচ্ছে। কাজেই এটা বলা যায়, এই ইভিএম ব্যবহার সংবিধানসম্মত।’

তবে নাইকো দুর্নীতি নিয়ে কানাডিয়ান মাউন্টেড পুলিশ ও যুক্তরাষ্ট্রের এফবিআই’র তদন্ত প্রতিবেদন নিয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি আইনমন্ত্রী আনিসুল হক। তিনি বলেন, মামলাটি বিচারাধীন। এটি নিয়ে কোনো মন্তব্য করতে চাই না। মন্তব্য করলে মামলায় প্রভাব পড়তে পারে। কখনোই আমি বিচারাধীন বিষয়ে মন্তব্য করি না।

এর আগে বিচার প্রশাসনিক প্রশিক্ষণ কর্মশালার উদ্বোধনের সময় আনিসুল হক বলেন, বঙ্গবন্ধু স্বপ্ন দেখেছিলেন স্বাধীন বিচার ব্যবস্থার। এই স্বপ্নের বাস্তবায়ন নির্ভর করছে আপনাদের (উপস্থিত বিচারক) ওপর। ১৯৭২ সালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান দেশে ফিরে যে কাজটি প্রথমে শুরু করা দরকার সেই কাজটি আগে করেছিলেন। তিনি বাংলাদেশের জন্য একটি সংবিধান তৈরি করেন। সে সংবিধানে বিচারবিভাগের স্বাধীনতার কথা বলা হয়েছিল। কিন্তু ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধুসহ তার পরিবারের মোট ১৮জন সদস্যকে হত্যার মধ্য দিয়ে দেশে বিচারহীনতার ছায়া নেমে এসেছিল। এরপর জাতীয় চার নেতাকেও হত্যা করে তাদের মামলার অভিযোগপত্র দীর্ঘদিন ফেলে রাখা হয়েছিল।

প্রশিক্ষণ কর্মশালায় উপস্থিত বিচারকদের উদ্দেশ্যে মন্ত্রী বলেন, ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট শুরু হওয়া বিচারহীনতা থেকে বেরিয়ে এসে ১৯৯৬ সালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকার বিচারবিভাগের স্বাধীনতা প্রতিষ্ঠায় বিচারাঙ্গণের অবকাঠামো উন্নয়নে গুরুত্ব দেন। এরপর দ্বিতীয়বার ক্ষমতায় এসে বিচারবিভাগকে পৃথকীকরণ, এর স্বাধীনতা নিশ্চিত ও তৃতীয়বার ক্ষমতায় এসে বিচারকদের বেতন-ভাতা, মর্যাদা বৃদ্ধিসহ অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধি করা হয়।

তিনি বলেন, বছরখানেক আগেও শোনা গেছে, সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতির সঙ্গে আইন মন্ত্রণালয়ের বিরোধ রয়েছে। কিন্তু আমি বলতে চাই, ক্ষমতা নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের সঙ্গে আমাদের (আইন মন্ত্রণালয়) কোনও টানাপোড়েন কখনওই ছিল না। তবে একজন প্রধান বিচারপতি (এস কে সিনহা) ব্যক্তিস্বার্থ চরিতার্থ করতে বেশকিছু উদ্দোগ নিয়েছিলেন। কিন্তু তা করতে তিনি সফল হতে পারেননি। তাই আমি স্পষ্ট করে বলতে চাই, সুপ্রিম কোর্টের সঙ্গে আমাদের কোনো দ্বন্দ্ব নেই।

অধস্তন আদালতের জজদের প্রশিক্ষণ কর্মশালায় আরও বক্তব্য দেন আইন মন্ত্রণালয়ের সচিব আবু সালেহ শেখ মো. জহিরুল হক এবং বিচার প্রশাসন প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক সাবেক বিচারপতি খন্দকার মুসা খালেদ।

Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.


*